শেষ ভয়েস মেসেজ - Sad heartbreaking love story Bangla


শেষ ভয়েস মেসেজ

(একটি অপূর্ণ ভালোবাসার গল্প)

ভালোবাসার গল্প, দুঃখের প্রেমের গল্প, অপূর্ণ ভালোবাসা, বিচ্ছেদের গল্প, বাংলা প্রেমের গল্প, sad love story Bengali, heartbreaking love story, emotional Bengali story, WhatsApp love story, incomplete love story.


                                                        

বৃষ্টি পড়ছিল টুপটাপ। শহরের এক কোণে ছোট্ট ভাড়া ঘরের জানালার পাশে বসে ছিল জয়। সারাদিনের কাজ শেষ করে ফোনটা হাতে নিতেই চোখে পড়ল তমার নাম।

WhatsApp-এ ১৭টি ভয়েস মেসেজ।

সাথে একটা লম্বা মেসেজ।

জয়ের বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।

সাত বছরের সম্পর্কে তমা কখনও একসাথে এতগুলো ভয়েস মেসেজ পাঠায়নি।

কাঁপা হাতে মেসেজটা খুলল সে।

"জয়, আমি আর পারছি না। বাড়িতে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। অনেকদিন ধরে তোমাকে বলছি কিছু একটা করতে। তুমি শুধু বলেছো, আর একটু সময় দাও। কিন্তু সময় তো কারও জন্য থেমে থাকে না। আগামী মাসের ৫ তারিখে আমার বিয়ে। যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, কিছু একটা করো।"

জয় কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল।

মনে হচ্ছিল ঘরের দেয়ালগুলো ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে।



তমার সাথে জয়ের প্রথম দেখা হয়েছিল কলেজের লাইব্রেরিতে।

সেদিন তমা ভুল করে জয়ের বই নিয়ে চলে গিয়েছিল।

পরদিন বই ফেরত দিতে এসে বলেছিল,

তমা: "সরি, ভুলে নিয়ে গিয়েছিলাম।"

জয়: "কোনো সমস্যা নেই। তবে বই ফেরত দেওয়ার জন্য কফি খাওয়াতে হবে।"

তমা হেসে ফেলেছিল।

সেই হাসিটাই জয়ের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।

সেখান থেকেই শুরু।

প্রথমে বন্ধুত্ব।

তারপর গভীর ভালোবাসা।



কলেজ শেষ হওয়ার পর দুজনেই ভেবেছিল খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করবে।

কিন্তু বাস্তবতা অন্য গল্প লিখেছিল।

জয়ের বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না।

বাবার অসুস্থতা, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা, সংসারের দায়িত্ব সব একসাথে এসে পড়ল তার কাঁধে।

ভালো চাকরির খোঁজে তাকে চলে যেতে হলো অনেক দূরে।

অন্য রাজ্যে।


তমা: "তুমি কবে ফিরবে?"

জয়: "আর একটু সময় দাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।"

তমা: "তুমি গত তিন বছর ধরে একই কথা বলছ।"

জয়: "আমি কথা দিচ্ছি।"

তমা: "কিছু কিছু কথা সময়ের কাছে হেরে যায়, জয়।"

সেদিন কথাটা শুনে জয় চুপ করে গিয়েছিল।


শুরুতে প্রতিদিন কথা হতো।

তারপর দিনে একবার।

তারপর দুদিনে একবার।

তারপর ব্যস্ততা।

তারপর নীরবতা।

ভালোবাসা ছিল।

কিন্তু সময় ছিল না।

আর অনেক সময় ভালোবাসা নয়, সময়ের অভাবই সম্পর্ককে মেরে ফেলে।



প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখত তমা।

ভাবত,

"আজ হয়তো জয় ফোন করবে।"

অনেক রাত পর্যন্ত অনলাইন থাকত।

কিন্তু জয়ের রিপ্লাই আসত মাঝরাতে।

একদিন তমা লিখেছিল,

"আমি তোমার জীবনে আছি তো?"

জয় উত্তর দিয়েছিল,

"তুমি আমার পুরো জীবন।"

কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কথাগুলো সত্যি হলেও সব সময় যথেষ্ট হয় না।


বিয়ের ছয় মাস আগে একবার দেখা হয়েছিল তাদের।

স্টেশনের কাছে ছোট্ট চায়ের দোকানে।

দুজনেই জানত সময় কম।

তবুও কেউ কিছু বলতে পারছিল না।

চা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।

কথাগুলো গলায় আটকে ছিল।

অবশেষে তমা বলল,

তমা: "তুমি কি আমাকে হারাতে ভয় পাও না?"

জয়: "পাই।"

তমা: "তাহলে আমাকে নিয়ে যাও।"

জয় মাথা নিচু করে বসে রইল।

কারণ তার কাছে তখন ভালোবাসা ছিল।

কিন্তু নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছিল না।


জয় এক এক করে ভয়েস মেসেজ শুনতে শুরু করল।

প্রথমটায় তমার কান্না।

দ্বিতীয়টায় অভিমান।

তৃতীয়টায় নীরবতা।

চতুর্থটায় দীর্ঘশ্বাস।

তারপর এক জায়গায় তমা বলছিল,

"জয়, আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি না। তুমি অনেক চেষ্টা করেছ। কিন্তু আমারও তো একটা জীবন আছে। আমি আর পারছি না।"

আরেকটা মেসেজে বলেছিল,

"যদি কোনোদিন দেখা হয়, আমাকে ঘৃণা করো না।"

জয়ের চোখ ভিজে উঠল।

সেই রাতেই জয় ট্রেনের টিকিট কাটল।

পরদিন সকালে তমার বাড়ির সামনে পৌঁছল।

কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে।

আত্মীয়-স্বজন ভিড় করছে।

তমা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।

দুজনের চোখে চোখ পড়ল।

সাত বছরের ভালোবাসা।

হাজারো স্মৃতি।

অগণিত প্রতিশ্রুতি।

সবকিছু এক মুহূর্তে ভেসে উঠল।


শেষ কথোপকথন

জয়: "আমি এসেছি।"

তমা: "অনেক দেরি করে।"

জয়: "আরেকটু সময় দাও।"

তমা মৃদু হেসে বলল,

তমা: "সময়ই তো শেষ হয়ে গেছে, জয়।"

জয় কিছু বলতে পারল না।



৫ তারিখ।

তমার বিয়ে।

দূরে দাঁড়িয়ে ছিল জয়।

সে কোনো নাটক করেনি।

কাউকে কিছু বলেনি।

কারণ ভালোবাসা কখনও কখনও অধিকার নয়।

ত্যাগও হতে পারে।

তমা গাড়িতে ওঠার আগে একবার পিছন ফিরে তাকিয়েছিল।

জয়ও তাকিয়ে ছিল।

কিন্তু কেউ হাত নাড়েনি।

কারণ বিদায়ের ভাষা সবসময় শব্দে প্রকাশ করা যায় না।


পাঁচ বছর কেটে গেছে।

জয় এখনও অবিবাহিত।

তমাও নিজের সংসারে ব্যস্ত।

তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই।

তবুও মাঝে মাঝে পুরনো WhatsApp Chat খুলে বসে জয়।

সেই পুরনো ভয়েস মেসেজগুলো এখনো ডিলিট করেনি।

কারণ কিছু স্মৃতি ভুলে যাওয়ার জন্য নয়।

বেঁচে থাকার জন্য।


শেষ চিঠি

একদিন পুরনো ডায়েরির পাতায় জয় লিখল,

"তোমাকে আমি পাইনি।
কিন্তু ভালোবেসেছিলাম সত্যি।
হয়তো এই জন্মে আমাদের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে গেল।
তবুও তোমার আগামী জীবনের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।
তুমি সুখে থেকো।
কারণ তোমার হাসিটাই ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্য।"


সব ভালোবাসার গল্প একসাথে শেষ হয় না।

কিছু গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

কিছু মানুষ জীবনে আসে থেকে যাওয়ার জন্য নয়, বরং ভালোবাসার মানে শেখানোর জন্য।

জয় ও তমার গল্পও তেমনই।

তারা একে অপরকে পায়নি।

কিন্তু একে অপরকে সত্যিকারের ভালোবাসতে শিখেছিল।

আর হয়তো এটাই ছিল তাদের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

শেষ।



Other Queries :
ভালোবাসার গল্প, দুঃখের প্রেমের গল্প, অপূর্ণ ভালোবাসা, বিচ্ছেদের গল্প, বাংলা প্রেমের গল্প, sad love story Bengali, heartbreaking love story, emotional Bengali story, WhatsApp love story, incomplete love story.

Post a Comment

0 Comments